ভিসা সহজীকরণ, রেল সংযোগ ও ট্যারিফ বাধা কমানোর অঙ্গীকার; অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভায় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, রেল সংযোগ এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে চুক্তির খসড়া টেক্সট ও পণ্যের তালিকা চূড়ান্ত করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরে নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে পিটিএ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটির সভার মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পক্ষ প্রস্তাব করেছে যে, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক পণ্যের আওতায় পিটিএ চালু করে পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস এবং পণ্যের মান পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
ব্যবসায়িক ভিসা, পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের ভিসা এবং পর্যটন ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় দেশই মনে করে, ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
সভায় রেল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
আলোচনার অন্যান্য মূল বিষয়:
- পেমেন্ট সিস্টেম: লেনদেন সহজ করতে নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থাপনা জোরদার করা।
- এলডিসি উত্তরণ: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময়।
- ব্যবসায়িক সফর: নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজন এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধি দল বিনিময়।
সভা শেষে জানানো হয়, ৯ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা নেপালে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের সচিবই বর্তমান চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে আশা করেন যে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।
















