আধিপত্যবাদ রুখতে ‘বাংলাদেশপন্থা’ ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও আধিপত্যবাদী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির ‘নেহরু ডকট্রিন’ কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত মূলত বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কোনো প্রকার পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই প্রায় ৩০ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আশ্রয় দেওয়া এবং এর বিপরীতে সাধারণ বাংলাদেশি শিশু স্বর্ণা দাস বা ফেলানীর মতো নাগরিকদের সীমান্তে গুলি করে হত্যার ঘটনা ভারতের ‘দ্বিমুখী’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বাংলাদেশে কোনো বন্ধু চায় না, বরং তারা চায় এমন এক অনুগত সরকার যারা দিল্লির স্বার্থ রক্ষা করবে। এই নীতিকে মোকাবিলা করার একমাত্র পথ হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘বাংলাদেশপন্থা’ বা দেশপ্রেমের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে ধর্মীয় গোঁড়ামির কবলে পড়ে একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে’ পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। নিজ দেশে সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলা এবং ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশি দূতাবাসে উগ্রবাদী হামলার ঘটনা এর প্রমাণ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বহিষ্কারের বিষয়টিও ভারতের জাতিগত বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিকল্প বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করা জরুরি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভারতবিরোধী শক্তির সাথে অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে বাংলাদেশকে সিকিমের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।














