যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ১০০ দিন পূর্ণ হলেও এখনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। এ সময়ে একাধিকবার দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও বিভিন্ন মতবিরোধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে আলোচনার অগ্রগতি থমকে গেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলের শুরুতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সংঘাত অনেকটা কমে এলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।
এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের রাজধানীতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি বৈঠক। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
আলোচনায় প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। পশ্চিমা দেশগুলো এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়, অন্যদিকে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের বলে দাবি করে আসছে।
সরাসরি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নতুন সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করা হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া আস্থার পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
একই সময়ে লেবাননে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন, এটি ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার পথ খুলে দেবে। তবে যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত থাকায় সেই আশা পূরণ হয়নি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান প্রণালিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়।
জুনের শুরুতে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও সামনে আসে। এতে নতুন করে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর জন্য চাপ বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হলেও মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, লেবাননের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে রয়ে গেছে।
তাঁদের মতে, আলোচনায় প্রায় সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হলো বাকি থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যেগুলোতে কোনো পক্ষই আপস করতে রাজি নয়। ফলে যুদ্ধ শুরুর ১০০ দিন পরও স্থায়ী শান্তির পথ অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।















