বিদেশি সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নাইজেরিয়ায় দ্রুত বিকাশ ঘটছে ড্রোন শিল্পের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই প্রকৃত প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব নয়; এর জন্য শক্তিশালী নীতি, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন।
নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজাভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি টাওয়ার এবং চালকবিহীন স্থলযান তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ব্যবহৃত উপকরণের ৭০ শতাংশেরও বেশি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং সফটওয়্যার থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নিজস্বভাবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তি বর্তমানে আফ্রিকার একাধিক দেশ এবং উত্তর আমেরিকার একটি দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র, খনি, তেল শোধনাগারসহ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, জলদস্যুতা, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষার জন্য দ্রুত ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এ কারণে স্থানীয়ভাবে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির চাহিদাও বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘানায় তাদের দ্বিতীয় উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এটি চালু হলে বছরে প্রায় ৫০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগও পেয়েছে। এটি আফ্রিকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও প্রকৃত স্বনির্ভরতা নির্ভর করবে সরকারের ক্রয়নীতি, প্রযুক্তির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর।
















