আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ভৌগোলিক কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে এখন মূলত আফ্রিকায় চলে গেছে বলে এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে কথিত ইসলামিক স্টেটের দাবি করা হামলার প্রায় ৯০ শতাংশই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানেও সংগঠনটির তৎপরতা নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একসময় ইরাক ও সিরিয়াকে কেন্দ্র করে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে সংগঠনটির প্রধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও মোজাম্বিকে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাণহানির দিক থেকেও কঙ্গো ও নাইজেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফ্রিকায় সংগঠনটি শুধু হামলা চালিয়েই থেমে নেই; কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধরনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যদিকে সিরিয়া এখনও সংগঠনটির আদর্শিক ও প্রচারণার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে হামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ধর্মীয় বিভাজন উসকে দেওয়া, প্রচারণা চালানো এবং নতুন সদস্য আকৃষ্ট করার কাজে দেশটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পরিবর্তে পাকিস্তানে সংগঠনটির তৎপরতা এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। হামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রাণহানির হার বেশি হওয়ায় দেশটিকে নতুন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিলিপাইনে সীমিত পরিসরে সংগঠনটির উপস্থিতি এখনও বজায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী অনিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে এসব গোষ্ঠী নতুন ঘাঁটি তৈরি করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি এবং প্রবাসী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে দূর থেকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার কৌশলও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আফ্রিকা এবং পাকিস্তানকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার না করলে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
















