বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক আন্দোলন, কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সড়ক অবরোধের কারণে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কারখানা চালু রাখার পাশাপাশি উৎপাদনযন্ত্র ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্যোক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উদ্যোক্তাদের মতে, এই অস্থিতিশীল পরিবেশ কেবল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত করছে না, বরং সমগ্র অর্থনীতিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ও রপ্তানি আদেশ ধরে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে। প্রায় এক মাস ধরে চলা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন সম্প্রতি সহিংস রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দার কারণে শিল্প খাত এমনিতেই চাপে ছিল। এর ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রতিকূলতা আরও বেড়েছে। তিনি মনে করেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করার পরও সহিংস আন্দোলন অনভিপ্রেত। আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো তৃতীয় বা চতুর্থ পক্ষ ইন্ধন জোগাচ্ছে কি না, তা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর এই ধরনের আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেসব কারখানায় নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছিল, সেখানেও বহিরাগতরা এসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটের কারণে পোশাক খাত আগে থেকেই চাপের মধ্যে ছিল। এখন এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।























