সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের এক বছর পূর্তিতে দেশটিতে ফেরার ঢল বেড়েছে। ১৪ বছরব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশাল মানবিক সংকটে ২০২১ সালে প্রায় ৬৮ লাখ সিরীয় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের বড় অংশের জন্য তুরস্ক, লেবানন ও জর্ডান ছিল আশ্রয়স্থল।
গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের হিসেবে ৭৮২,০০০-রও বেশি সিরীয় বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ৭০ হাজার আলেপ্পো, ১ লাখ ৩৪ হাজার হোমস এবং ১ লাখ ২৪ হাজার গ্রামীণ দামেস্কে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ১৮ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিজ শহর বা গ্রামে ফিরে গেছেন। ফলে মোট ২৬ লাখ মানুষের বাড়ি ফেরা নথিভুক্ত হয়েছে।
২০১২ সালে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া দামেস্কের খালেদ আল-শাট্টা জানান, আসাদ পতনের মুহূর্তে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ১৩ বছর পর তিনি আবার কাজ শুরু করেছেন, তবে অনেকেই কাজের সুযোগ বা পর্যাপ্ত বেতনের অভাবে স্থায়ীভাবে থিতু হতে পারছেন না। সিরিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের তারতম্য ব্যাপক—কেউ মাসে ১৫০ ডলার আয় করলেও কেউ ২ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।
আইওএমের তথ্য বলছে, দেশে ফিরে আসা অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপে বসবাস করছে বা বেশি ভাড়ায় বাড়ি নিচ্ছে। বর্তমানে ৬৯ শতাংশ সিরীয়ের নিজস্ব বাড়ি থাকলেও ১৯ শতাংশ ভাড়া থাকেন, ১১ শতাংশ স্বজনদের সঙ্গে ও ১ শতাংশ অবৈধভাবে দখলকৃত ভবনে থাকেন। সিরিয়ার জনসংখ্যা এখন ২ কোটি ৬৯ লাখ।
অন্যদিকে ইউরোপে শরণার্থী আবেদন কমতে শুরু করেছে। আসাদ পতনের পর অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য সিরীয়দের আশ্রয় আবেদন স্থগিত করে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউ+ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমে। দশকের মধ্যে প্রথমবার, সিরীয়রা আর সবচেয়ে বড় শরণার্থী আবেদনকারী গোষ্ঠী নয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসাদবিরোধী বা সেনাসেবা এড়ানো ব্যক্তিদের আর নিপীড়নের ঝুঁকি নেই।
দেশের অভ্যন্তরে ফিরতি প্রবাহও বাড়ছে—আলেপ্পোতে ৪ লাখ ৭১ হাজার, ইদলিবে ৪ লাখ ৬০ হাজার এবং হামায় ৩ লাখ ১৪ হাজার মানুষ ফিরে এসেছেন। দক্ষিণ ইদলিবের মারাত আল-নুমান থেকে বহুবার পালিয়ে থাকা তালাল নাদার আল-আব্দো বলেন, শরণার্থী শিবিরের কঠিন দিনগুলোর পর তারা ধ্বংসস্তূপে হলেও ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।
যদিও বহু মানুষ ঘরে ফিরেছেন, এখনো ৬০ লাখের বেশি সিরীয় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রামীণ দামেস্কে ১৯.৯ লাখ, আলেপ্পোতে ১৩.৩ লাখ এবং ইদলিবে প্রায় ৯.৯ লাখ মানুষ বাস করছেন।
সিরিয়া নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেও দেশের পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সংকট ফেরত আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতির পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
















