ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন প্যাট্রোল পুলিশের প্রধান ইয়েভহেন ঝুকভ।
শনিবার কিয়েভের হলোসিইভস্কি এলাকায় এক বন্দুকধারীর হামলায় ছয়জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হন। হামলাকারী প্রথমে সড়কে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পরে একটি সুপারমার্কেটে জিম্মি পরিস্থিতি তৈরি করে। পরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে সে নিহত হয়।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্য সাধারণ মানুষকে ফেলে রেখে সরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লিমেনকো জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “সেবা ও সুরক্ষা শুধু স্লোগান নয়, সংকটময় মুহূর্তে তা কার্যকরভাবে প্রমাণ করতে হয়।”
তবে তিনি পুরো পুলিশ বাহিনীকে দায়ী না করার আহ্বান জানান।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ঝুকভ বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাদের আচরণ ছিল অপেশাদার। তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে, যদিও এখনো হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকারীর মানসিক অবস্থা “অস্থিতিশীল” বলে উল্লেখ করেছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং পালিয়ে যান। তিনি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে আহতদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি রাশিয়ার মস্কো থেকে এসে কিয়েভে বসবাস করছিলেন। ঘটনার আগে তিনি নিজের বাসায় আগুন লাগিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কিয়েভে এ ধরনের বন্দুক হামলা তুলনামূলক বিরল, যা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
















