মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সংকট নেই, যদিও ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
স্পেনের বার্সেলোনা-এ এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কোনো কূটনৈতিক সংকট নেই, কখনো ছিলও না। তবে আমাদের দেশের আদিবাসী জনগণের শক্তি ও ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই সম্মেলনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। যদিও তিনি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে স্পেনের কর্মকর্তারা এটিকে সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
মেক্সিকো ও স্পেনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০১৯ সালে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর স্পেনের কাছে উপনিবেশিক শাসনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা দাবি করেন।
১৬শ শতকে স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপনের সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় এবং অ্যাজটেক সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়—যা এখনো দুই দেশের সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল বিষয়।
এই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে শেইনবাউম তার শপথ অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ-কে আমন্ত্রণ জানাননি। এর প্রতিক্রিয়ায় স্পেনও কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নতির কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। স্পেনের রাজা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে উপনিবেশিক সময়ে “অনেক অন্যায় ও নির্যাতন” হয়েছিল। একইসঙ্গে শেইনবাউম তাকে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এই সফরটি গত আট বছরের মধ্যে কোনো মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের প্রথম স্পেন সফর।
এদিকে সম্মেলনে গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী নেতারা বৈশ্বিক রাজনীতিতে চরমপন্থা ও একতরফা শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
একই সময়ে ইউরোপের অন্য প্রান্তে ডানপন্থী নেতাদের সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকো ও স্পেনের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
















