ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল এম ডেভিস বলেন, ভিটামিন সি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে দেহকে ক্ষতিকর দূষণজাত যৌগ থেকে সুরক্ষা দেয়, আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং কোলাজেন তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। তবে তিনি জানান, অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণ বা বেশি কমলার রস পান করলে সর্দি প্রতিরোধ হয় কিংবা দ্রুত সেরে ওঠা যায়—এ ধারণা বাস্তবে সত্য নয়।
ডেভিস, যিনি Immune Health বিষয়ক একটি আলোচিত বইয়ের লেখক, বলেন—প্রায় ৫০ বছর ধরে ভিটামিন সি নিয়ে ভুল ধারণা টিকে আছে মূলত এক ব্যক্তির জোরালো প্রচারের কারণে। তিনি লাইনাস পাউলিং, যিনি দ্বিগুণ নোবেলজয়ী এবং ২০শ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী রসায়নবিদ। পাউলিং ভিটামিন সি–এর নানা উপকার তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু এর সীমাবদ্ধতাও অতিরঞ্জিত করেছিলেন। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তার বই Vitamin C and the Common Cold জনপ্রিয়তা পায়, চাহিদা এত বেড়ে যায় যে নতুন নতুন কারখানা গড়ে ওঠে সাপ্লিমেন্ট উৎপাদনের জন্য।
বাস্তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ারা এবং না খাওয়ারা সমানভাবেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উপসর্গের সময়সীমা সামান্য কমাতে পারে—প্রায় ৮ শতাংশ—তবে এ প্রভাব খুবই ক্ষুদ্র। ডেভিস মনে করিয়ে দেন, নিয়মিত ভিটামিন সি–গ্রহণকারীরা সাধারণত স্বাস্থ্যের প্রতি বেশি সচেতন, তাই এসব ডেটা ব্যাখ্যায়ও জটিলতা থাকে।
তিনি বরং রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ডি–এর দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ডি–এর গুরুত্ব অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রোদ থেকে এটি পাওয়া যায়। তবে শীতকালে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগ (এনএইচএস) সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
















