অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খাইর গ্রামে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফিলিস্তিনি শিশুরা। বই হাতে তারা রাস্তায় নেমে দাবি জানিয়েছে—শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
পাঁচ বছর বয়সী মাসা হাতালিন কাঁপা কণ্ঠে সেনাদের উদ্দেশে বলে, “আমরা শুধু স্কুলে যেতে চাই। আমরা কোনো ভুল করছি না।” তার মতো আরও অনেক শিশু ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কাঁটাতারের সামনে দাঁড়িয়ে গান গায়, স্লোগান দেয়—“রাস্তা খুলে দাও।”
স্থানীয়দের দাবি, বহু দশক ধরে ব্যবহৃত এই পথ হঠাৎ করে বসতি স্থাপনকারীরা রাতের অন্ধকারে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে শিশুদের স্কুলে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর স্কুল আংশিকভাবে খুললেও শিক্ষার্থীরা এসে দেখে তাদের পথ বন্ধ। বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অন্য পথ প্রস্তাব করা হলেও অভিভাবকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রাম পরিষদের প্রধান খালিল হাতালিন বলেন, “শিশুরা ভয় পাচ্ছে, অনেকেই ঘুমাতে পারছে না। এটি শুধু পথ বন্ধ করা নয়, তাদের ভবিষ্যৎ আটকে দেওয়া।”
শিশুরা যখন অন্য পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও শব্দ বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা শুরু করেছে “ফ্রিডম স্কুল” উদ্যোগ। প্রতিদিন সকাল থেকে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিশুরা কাঁটাতারের সামনে জড়ো হয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষক তারেক হাতালিন বলেন, “শিক্ষা সবার অধিকার। এই পথ বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের পেছনে বড় পরিকল্পনা রয়েছে—এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে চাপ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া।
১০ বছর বয়সী মিরা হাতালিন বলে, “আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু যদি স্কুলেই যেতে না পারি, তাহলে কীভাবে পড়াশোনা করব?”
আরেক কিশোরী সারা হাতালিন জানায়, ভয় থাকলেও তারা পিছু হটবে না। “আমরা অন্য সব শিশুর মতোই। তারা স্কুলে যায়, আমরা কেন যাব না?”
গ্রামটি ইতোমধ্যে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, স্কুলের পথ বন্ধ করা ও উচ্ছেদের হুমকি একই পরিকল্পনার অংশ।
তবে শিশু ও অভিভাবকরা হাল ছাড়ছেন না। তারা প্রতিদিন কাঁটাতারের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের দাবি জানাচ্ছেন—
“আমরা স্কুলে যেতে চাই”
“আমাদের শিখতে দাও”
এই প্রতিবাদ এখন শুধু একটি পথ খোলার দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে অধিকার, শিক্ষা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
















