দেশে হাম ও হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের প্রকোপ ক্রমেই আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও সাতটি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের নানাবিধ উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত এক হাজার ২৭৩ জন শিশু।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে প্রকাশিত হাম-বিষয়ক প্রতিদিনের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গতকাল শনিবার সকাল থেকে শুরু করে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে হামের বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো শিশুর প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারা দেশজুড়ে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৮ জনে। এ ছাড়া একই পর্যবেক্ষণ সময়সীমার মধ্যে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া আরও ১০৪ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। ফলে গত সাড়ে ছয় মাসে কেবল হাম ও হামের জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট এক হাজার ১৬২ জন শিশুর অকাল প্রাণহানি ঘটল।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া ৯৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর সরাসরি হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮০ জন। এই একদিনেই দেশের বিভিন্ন ডেডিকেটেড সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আরও এক হাজার ১০২ জন শিশু গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে সুস্থতার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ ঘরে ফিরে গেছে এক হাজার ১৫ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সংগৃহীত সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দেশে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৪২১ জন। এ ছাড়া এই দীর্ঘ সময়সীমার মধ্যে মোট এক লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এক লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন শিশু আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।


























