ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হলেও এখনো এ সংঘাতের পক্ষে শক্ত জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং যুদ্ধটি দেশটির জনগণের কাছে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আগামী নির্বাচনে ট্রাম্প ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুদ্ধ শুরুর আগেই বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের ওপর হামলার বিপক্ষে। যুদ্ধ শুরুর পরও সেই অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অনেক ভোটার মনে করছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে না এবং দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জিতছে বা জয়ের পথে রয়েছে। বিপরীতে অধিকাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুদ্ধটি দেশের জন্য ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরাও যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির জন্য অনেক নাগরিক এই যুদ্ধকে দায়ী করছেন।
এক জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভোটারদের মধ্যে প্রায় একই ধরনের উদ্বেগ দেখা গেছে।
যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য এবং অর্থনৈতিক চাপ এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রহণযোগ্য মূল্য, তবে সমালোচকেরা বলছেন, সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্ভোগকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতি বা নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা আরও বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসন জনগণের সামনে পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেনি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আইনসভায়ও বিস্তৃত আলোচনা হয়নি। ফলে অনেকের কাছে এই সামরিক পদক্ষেপ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব, বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে ক্লান্তি এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
















