চীনা প্রতিষ্ঠানের বিদেশে অবস্থিত সহযোগী বা অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর কাছেও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সম্ভাব্য ফাঁকফোকর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ রপ্তানির জন্য লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা সেই সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যাদের মূল কার্যালয় বা মূল মালিকানা চীনে অবস্থিত।
বাণিজ্য বিভাগের অধীন শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরো জানিয়েছে, পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিলের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নের জবাব দিতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, আগের লাইসেন্স সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এখনো কার্যকর রয়েছে।
বিদায়ী প্রশাসনের সময় প্রস্তাবিত বৈশ্বিক লাইসেন্স কাঠামো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল। তবে প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর আপত্তির মুখে তা বাস্তবায়নের আগেই বাতিল করা হয়।
বর্তমান প্রশাসন সেই কাঠামোকে অতিরিক্ত জটিল ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছিল।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, চীনা মালিকানাধীন কোম্পানির কাছে নিয়ন্ত্রিত পণ্য পাঠাতে লাইসেন্স প্রয়োজন—এ নীতি তারা আগে থেকেই অনুসরণ করে আসছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তিনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ক্রিস ম্যাকগুয়ার অভিযোগ করেছেন, নীতিগত অস্পষ্টতার সুযোগে কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত চিপ কিনতে পেরেছে।
তার মতে, নতুন ব্যাখ্যা অন্তত এটুকু নিশ্চিত করেছে যে চীনা মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে উন্নত চিপ পাঠানো এখন আবার অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি ও চিপ সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে একটি উন্নতমানের চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়ে কিছুটা শিথিল অবস্থানও নিয়েছিল। ওই চিপটি আগের অনুমোদিত মডেলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী বলে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, চিপ রপ্তানি, প্রযুক্তি যুদ্ধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, এনভিডিয়া, প্রযুক্তি নীতি, বৈশ্বিক অর্থনীতি
















