কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দূরবর্তী পার্সেল পর্বতমালার উপত্যকায় হাঁটাহাঁটি মানেই ভরপুর অ্যাডভেঞ্চার। সেখানে হাইকিং করতে গিয়ে বন্য প্রাণী মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক নয়—যেমন এক পর্যটকের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, যখন ঝোপের আড়ালে শব্দ শুনে গাইড হঠাৎ ভালুকের উপস্থিতি টের পেয়ে সতর্ক করেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানোই এক ধরনের যাত্রা। গোল্ডেন শহর থেকে ১৫ মিনিটের হেলিকপ্টার ভ্রমণ ছাড়া পার্সেল মাউন্টেন লজে প্রবেশের আর কোনো উপায় নেই। সরু পর্বতচূড়া ও গভীর উপত্যকার ওপর দিয়ে উড়ে ছোট গ্রাভেল হেলিপ্যাডে অবতরণ করতে হয়। পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ১৯৮৯ সালে নির্মিত এই অফ-গ্রিড লজটি সম্পূর্ণ টেকসই ব্যবস্থাপনায় চলে।
হেলি–হাইকিংয়ের জন্ম এই অঞ্চলেই। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রিয়ান–কানাডিয়ান পর্বতারোহী হান্স গমোজার হেলি–স্কিইং শুরু করেন এবং পরে ভূতত্ত্ববিদ আর্ট প্যাটারসনের সঙ্গে মিলে ‘কানেডিয়ান মাউন্টেন হলিডেজ’ নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৭০-এর দশকে গ্রীষ্মকালের জন্য হেলি–হাইকিং চালু হয়—যেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পর্যটকদের পৌঁছে দেওয়া হতো এমন স্থানে, যা সাধারণত দিন বা সপ্তাহব্যাপী কঠিন আরোহন ছাড়া অগম্য।
এখন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া জুড়ে ৩০টিরও বেশি লজ হেলি–হাইকিং সুবিধা দিচ্ছে। ভিয়া ফেরাটা, ট্রেইল–রানিং, অলপাইন হাইকিং—এসব সবই অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে এই অভিজ্ঞতায়।
পার্সেল মাউন্টেন লজে বুক করা চার দিনের হেলি–হাইকিং অভিযানে পর্যটকরা পেয়ে থাকেন বিশেষ ACΜG–গাইড, পরিবেশবান্ধব আবাসন এবং প্রতিদিনের গাইডেড ট্রেকিং। গাইড জেসন লোরি যেমন এক পর্যটককে নিয়ে চিহ্নহীন পথে কপারস্টেইন পর্বতের রিজ ধরে অভিযানে বেরিয়েছিলেন—যেখানে পাথুরে ঢাল, বাতাসের তীব্রতা ও দুই দিকের খাড়া খাদ তৈরি করেছিল অনন্য অভিজ্ঞতা।
লজে ফেরার পর ক্লান্তি দূর করতে থাকে সাউনা, গরম পানি, সুস্বাদু খাবার ও আরামদায়ক কমন স্পেস। যদিও কক্ষগুলো সরল, তবে পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরিবিলি—চার দিন অভিযানের মধ্যে আর কোনো হাইকিং গ্রুপের সঙ্গে দেখা হয়নি।
শীতে এখানকার প্রধান আকর্ষণ হেলি–স্কিইং। তুষারপাতের মৌসুমে অনেক দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আরও অগম্য অঞ্চলে পৌঁছে গিয়ে স্কিইং করে ফিরে আসে। লজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন হেলি–হাইকিং ও হেলি–স্কিইং—দুটি মৌসুমই প্রায় সমান জনপ্রিয়।
অভিযানে অংশ নিয়ে পর্যটকরা শিখতে পারেন বন্যপ্রাণী শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিয়ম, পাহাড়ি গঠন এবং স্থানীয় উদ্ভিদ–প্রাণীর বৈশিষ্ট্য। গ্রিজলি ভালুক থেকে ছোট কাঠবিড়ালি—বন্যতার স্বাদও মেলে প্রকৃত জীবনঘনিষ্ঠতায়।
সবশেষে, হেলি–হাইকিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—যারা প্রচলিত পর্বতারোহণে দক্ষ নন, তারাও সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন উচ্চতর নির্জন প্রান্তরে। প্রকৃতি দেখা, খাবার ভাগাভাগি, মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি—এই চার উপাদানই প্রতিটি সফরকে বিশেষ করে তোলে।
















