‘তাকে বুঝতে দেব না দেশে তার সন্তান নেই’ —নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিল শেষে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা
নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমান দেশে আসতে না পারলেও খালেদা জিয়ার জন্য যা দরকার, দল সব করবে। অপচিকিৎসার অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত এবং ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন কারণে দেশের মাটিতে ফিরে মায়ের কাছে আসতে না পারলেও দল খালেদা জিয়ার পাশে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে দাঁড়াবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি এই বার্তা দেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “তারেক রহমান না আসতে পারলেও আমরা যা যা দরকার, সব করবো। তাকে কোনোদিন বোঝাতে দেব না যে দেশে তার সন্তান নেই।” এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কারামুক্তির আগে খালেদা জিয়াকে অপচিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতা–কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস আরও দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপি ও খালেদা জিয়ার হাতেই নিরাপদ। তার ভাষায়, “সতের বছর পর দেশ যখন আবার গণতন্ত্রের স্বাদ পেতে শুরু করেছে, তখন একটি শক্তি ষড়যন্ত্রে নেমেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে জনমানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চাওয়ার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি বলেন, “যারা মন্দিরে গিয়ে গীতাপাঠ করে অতিরঞ্জন দেখায়, তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
জামায়াতের নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের জ্ঞান বা বুদ্ধি থাকতে পারে, তবে দেশপ্রেম আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দেশের সব “রাক্ষসের হাত” থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও খালেদা জিয়ার শারীরিক সংকটের মধ্যে মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য বিএনপির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
















