৪ অক্টোবর ২০২৫
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সম্প্রতি বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা কার্যত বাংলাদেশিদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় বা ইউরোপ/যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠিন করে দিচ্ছে। ইতালি এই বিষয়টি প্রথম তুলে ধরে EU সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, যে তারা আর বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করবে না। ইতালির যুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল।
প্রেক্ষাপট ও পরিসংখ্যান ইউরোপীয় কমিশনের ১৬ এপ্রিল ২০২৫-এর তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে কসোভো, কম্বোডিয়া, মিশর, ভারত, মরক্কো এবং তিউনিসিয়া।
BBC Bangla জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইউরোপে আশ্রয় প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে। ২০২৪ সালে ৪৩,২৩৬ জন বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদন করেছিলেন, এবং আরও ৪৭,৭৭৮টি মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল। তবে অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম, মাত্র ৩.৯৪ শতাংশ অনুমোদিত এবং ৯৬ শতাংশের বেশি প্রত্যাখ্যাত।
ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় প্রার্থীরা এমন সুযোগ ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যরা সরকার পরিবর্তনের পর নির্যাতনের অভিযোগে আশ্রয় পেতেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

নতুন নীতি ও প্রভাব EU-এর সংশোধিত অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি অনুযায়ী, নিরাপদ দেশের তালিকায় থাকা দেশের নাগরিকদের আবেদন দ্রুতগতিতে প্রক্রিয়াকৃত হবে, প্রায় সব মামলার সিদ্ধান্ত তিন মাসের মধ্যে নেওয়া হবে। যদিও বাস্তব নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম থাকবে, অনুমোদনের সম্ভাবনা বিশালভাবে কমেছে।
এই নীতি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে সেই বাংলাদেশিদের উপর, যারা রাজনৈতিক অবস্থার সুবিধা নিয়ে আশ্রয় চেয়েছিলেন বা বিদেশে বড় অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন তাদের আবেদন আরও কঠোর যাচাইয়ের মুখোমুখি হবে, এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে দেশত্যাগ ও সম্পদ ক্ষতির ঝুঁকি থাকবে।
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরাপদ দেশের লেবেলকে সমালোচনা করেছে। তাদের যুক্তি, প্রতিটি আশ্রয় আবেদনের বিচার স্বতন্ত্রভাবে হওয়া উচিত, জাতীয় লেবেলের ভিত্তিতে নয়।
অন্যদিকে EU কর্মকর্তারা বলেন, অতিভারী আবেদন মোকাবিলা করা ও ইউরোপে চরম ডানপন্থী, অভিবাসনবিরোধী চাপ সামলানো জন্য এই সিদ্ধান্ত জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নীতি বাংলাদেশিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ করতে সহায়ক। যুবকরা, যারা বিপজ্জনক এবং ব্যয়বহুল পথ দিয়ে আশ্রয় পাওয়ার আশা রাখতেন, তারা এখন সম্ভাবনা কম হওয়ায় ঝুঁকি নেওয়া এড়াতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ EU-এর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুবিধা ভোগ করা Opportunistic বা লুটেরাদের কৌশলকে ব্যর্থ করেছে, তবে সত্যিকার নিপীড়নের শিকারদের জন্য এখনও সুরক্ষা নিশ্চিত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজকে রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে দৃঢ় করার পাশাপাশি, ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।















