দক্ষিণ আফ্রিকা জি-২০ সম্মেলন ঘিরে সম্ভাব্য বিক্ষোভের প্রস্তুতি হিসেবে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। শনিবার জোহানেসবার্গে শুরু হওয়া দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে পুলিশ, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং একটি শক্তিশালী মহড়াও প্রদর্শন করেছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই নিরাপত্তা প্যারেডে হেলিকপ্টার, মোটরসাইকেল ইউনিট ও বিশেষ বাহিনী অংশ নেয়। জাতীয় যৌথ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর অধীনে অতিরিক্ত ৩,৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, আর সেনাবাহিনীকে রাখা হয়েছে প্রস্তুত অবস্থায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডেপুটি ন্যাশনাল কমিশনার টেবেলো মোসিকিলি জানান, জোহানেসবার্গসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “বিক্ষোভের অধিকার আমরা সম্মান করি, তবে তা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে হতে হবে।”
সম্মেলনস্থলের পাশেই নির্দিষ্ট এলাকা বিক্ষোভকারীদের জন্য বরাদ্দ করেছে পুলিশ। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের নেতা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না।
সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিক্ষোভের ঘোষণাও এসেছে। পুঁজিবাদবিরোধী কর্মী, জলবায়ু অধিকারকর্মী, নারী অধিকার সংগঠন ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠী—সবাই নিজেদের দাবি তুলে ধরতে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ দক্ষিণ আফ্রিকার দারিদ্র্য ও বৈষম্যের চিত্রও সামনে আনবে বলে জানিয়েছে।
জোহানেসবার্গে একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড ঝুলিয়েছে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানার শ্রমিক সংগঠন সলিডারিটি, যেখানে লেখা—“বিশ্বের সবচেয়ে বর্ণভিত্তিক আইনপ্রণীত দেশে আপনাকে স্বাগতম।” একটি বোর্ড সরিয়ে ফেললে সংগঠনটি আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন সরকার শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে অস্তিত্বহুমকি তৈরি করছে—এমন দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্মেলনে না এলে যৌথ ঘোষণায় হস্তক্ষেপের অধিকারও তাদের নেই।
নারী অধিকার সংগঠন উইমেন ফর চেঞ্জ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে, নারীর প্রতি ব্যাপক সহিংসতা ও ফেমিসাইডের প্রতিবাদে। তাদের ভাষায়, “দেড় ঘণ্টায় এক নারী নিহত হওয়া দেশের পরিস্থিতি না বদলালে জি-২০-এর উন্নয়নের কথা অর্থহীন।”
অন্যদিকে একটি অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠী কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগঠন জোহানেসবার্গে বিকল্প সম্মেলনের আয়োজন করেছে, যাদের দাবি—জি-২০ মূলত “ধনীদের অনুষ্ঠান”।














