মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে কঠোর সমালোচনার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পর দুজনের মুখোমুখি সাক্ষাৎকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিবেশের বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
বুধবার রাতে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন যে মামদানি ওভাল অফিসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। একই পোস্টে তিনি মামদানিকে ভুলভাবে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দেন এবং তাঁর মধ্য নামটি উদ্ধৃতিচিহ্নে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প একাধিকবার মামদানিকে আক্রমণ করেন, তাঁর নাম ভুল উচ্চারণ করেন এবং হুমকি দেন যে মামদানি জিতলে নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন। এমনকি নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তিনি ডেমোক্রেট অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন জানান, রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া থাকা সত্ত্বেও।
মামদানি নিয়মিতই ট্রাম্প প্রশাসনকে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিশ्रুতি ছিল নিউইয়র্কের আবাসন সংকট ও আয় বৈষম্য কমানো—যা তিনি ট্রাম্পের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বিপরীত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, ট্রাম্পের জন্মস্থান নিউইয়র্কই দেখিয়ে দেবে কীভাবে একজন ‘স্বৈরশাসকের’ প্রভাব ভাঙা যায়।
নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জোয়ার দেখা দেওয়ার পর ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হয়েছে। ফ্লোরিডায় আমেরিকান বিজনেস ফোরামে তিনি বলেন, নিউইয়র্ককে সফল দেখতে তিনি সাহায্য করবেন।
এদিকে নির্বাচনের আগে ও পরে মামদানিকে ঘিরে রিপাবলিকান ও ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র ইসলামবিরোধী বক্তব্য ছড়ানো হয়। নির্বাচনের আগের দিন ব্রঙ্কসের একটি মসজিদের সামনে তিনি আবেগঘন ভাষণে এসব আক্রমণের জবাব দেন এবং জানান, এমন ঘৃণা শুধু তাঁকে নয়, নিউইয়র্কের এক মিলিয়ন মুসলমানকে লক্ষ্য করে।
মামদানি জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের মানুষের স্বার্থে যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত, সেই কারণে তাঁর টিম হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট সস্তা মুদিপণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পদক্ষেপে আমরা ঠিক বিপরীত চিত্র দেখছি। আমি নিউইয়র্কবাসীর প্রয়োজনগুলো স্পষ্টভাবে জানাতে সেখানে যাচ্ছি।”
















