কিউবার বিপ্লবের পর ১৯৬০ সালে জাতীয়করণ করা সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার বিরোধ আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, ওয়াশিংটন পুরোনো সম্পত্তি দাবিগুলোকে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামে দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় অভিযোগ আনে। একই সময়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কিউবায় জাতীয়করণ করা সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় এমন রায় দেয়, যা ভবিষ্যতে আরও ক্ষতিপূরণ দাবির পথ খুলে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির ধারাবাহিকতা। ১৯৯৬ সালের হেলমস-বার্টন আইন অনুযায়ী, কিউবায় জাতীয়করণ করা সম্পত্তি ব্যবহারকারী বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকরা মামলা করতে পারেন। সেই আইনের আওতায় বহু পুরোনো দাবি এখন নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘হাভানা ডকস করপোরেশন বনাম রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ক্রুজেস’ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, কিউবার জাতীয়করণ করা বন্দর ব্যবহার করে ক্রুজ পরিচালনা করা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বহু সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
এদিকে কিউবা ইতোমধ্যেই কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়া, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সমালোচকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ‘মানবিক হস্তক্ষেপ’-এর পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলা সহজ হতে পারে। তবে কিউবার সরকার এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সতর্ক করে বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে হাভানার কর্মকর্তারা মনে করছেন, জাতীয়করণ করা সম্পত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি তৎপরতা মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা শুধু অতীতের সম্পত্তি বিরোধ নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়। ফলে ভবিষ্যতে এই বিরোধ আরও জটিল আকার নিতে পারে।
















