ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবানন এখন সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে কোনো ধরনের স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়—এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান বারবার সতর্ক করে আসছিল যে লেবাননে হামলা চলতে থাকলে কূটনৈতিক আলোচনা বিপর্যস্ত হতে পারে। সেই সতর্কবার্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় রোববার রাতে, যখন বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করলেও এখন তাদের সুরক্ষায় নিজস্ব সামরিক শক্তি সরাসরি ব্যবহারের বার্তা দিচ্ছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে ভবিষ্যতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তাদের ভাষায়, বৈরুত এখন একটি ‘লাল রেখা’, যা অতিক্রম করা হলে সরাসরি প্রতিক্রিয়া আসবে।
অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ফলে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সেখানে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে তেল আবিব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থান মূলত তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ। তেহরান মনে করে, যদি হিজবুল্লাহকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাববলয় দুর্বল হয়ে পড়বে এবং অন্যান্য মিত্র গোষ্ঠীর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইলেও অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যদি লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলকে সংযত করতে না পারে, তাহলে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কূটনৈতিক আলোচনা চলতে পারে, তবে লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
















