হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন শুরু করতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এ কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গাজায় কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি হলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সীমিত করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। তবে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বৈঠক থেকে কোনো অগ্রগতি আসেনি। হামাস এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি জানিয়েছিল। এর বিনিময়ে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং গাজায় হামলা বন্ধের কথা ছিল।
তবে ইসরায়েল চলতি মাসের শুরুতে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অবস্থান, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কুশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও ইসরায়েলের এই অবস্থানের সঙ্গে মিল দেখা গেছে।
কুশনার বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। কিন্তু হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পুনর্গঠনে অর্থ বিনিয়োগ করা হবে না। তাঁর মতে, পুনর্গঠনের পর যদি আবার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বা নতুন করে সংঘাত শুরু হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ অর্থহীন হয়ে পড়বে।
এদিকে কুশনারের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সোমবার তিনি গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে, তাই ইসরায়েলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়।
এর আগে রোববার হামাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিরল বৈঠক করেন কুশনার। তিনি বৈঠককে সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেও জানান, হামাসের বক্তব্যের চেয়ে তাদের কার্যক্রমের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
কুশনারের মতে, হামাস আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অস্ত্র ও সুড়ঙ্গগুলো স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করলে তা ইসরায়েলের জন্য বড় নিরাপত্তা সাফল্য হবে। তবে হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সমর্থন আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
















