নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান সরকার। যুদ্ধ, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে থাকায় ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্কভাবে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ইরানের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে। এর মধ্যে দেশটির মুদ্রার মূল্যও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। রোববার খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ইরানি মুদ্রার মূল্য ২০ লাখে নেমে যায়।
বর্তমানে ইরানে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য ভিন্ন ভিন্ন দামে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। সবচেয়ে কম দামের স্তরে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ১৫ হাজার ইরানি মুদ্রা। অন্য দুটি স্তরে দাম যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৫০ হাজার মুদ্রা। তবে ভর্তুকি কমানো এবং জ্বালানির দাম ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইরানে প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার হয়। বিপরীতে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিও বন্ধ রয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সম্ভাব্য কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে সরকার আলোচনা করছে। এর মধ্যে বর্তমান দাম অপরিবর্তিত রেখে নির্ধারিত বরাদ্দ শেষ হলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া, প্রত্যেক নাগরিককে কম দামে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সব ধরনের ভর্তুকি তুলে দিয়ে বাজারভিত্তিক দাম নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে দাম এক লাফে বাড়ানো হলে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে পণ্যের দাম প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ছাড়িয়েছে ১২৮ শতাংশ।
সাধারণ মানুষের মধ্যে তাই জ্বালানির দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। দেশটির ইতিহাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের নজির রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে একদিকে রাজস্ব ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনঅসন্তোষের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
















