মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত তুরস্ক ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম ব্যারাক গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া মন্তব্য প্রত্যাহার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেছিলেন, জাতিসংঘের প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দৃষ্টিতে গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল সেখানে দখল বজায় রেখেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এর পর ব্যারাক তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, গোলান মালভূমি বিষয়ে মার্কিন নীতি আগের মতোই রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গোলান মালভূমি দখল করে। পরে ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই গোলানকে সিরিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়। এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকেরা বলেছিলেন, এর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে ভূখণ্ড দখলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নীতিকে দুর্বল করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কলম্বিয়াও গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ব্যারাকের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইসরায়েলপন্থী কয়েকজন মার্কিন রাজনীতিক ও সমালোচক তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, তিনি গোলান মালভূমি বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি।
এক মার্কিন সিনেটর বলেন, ইসরায়েলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্ব বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। তাই রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
সিরিয়ায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান নিয়েও ব্যারাক এর আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য তুরস্ককে উত্তেজিত করা হতে পারে।
সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা যখন নতুন করে বাড়ছে, তখন গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন দূতের মন্তব্য প্রত্যাহার ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ব্যারাকের বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
















