অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। দুই দলের আগের ছয় টেস্টের পাঁচটিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, একটিতে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের আগের দুই টেস্টের স্মৃতি অবশ্য সুখকর নয়। তবে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।
২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৭ রানে অলআউট হয় দল। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪০৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। দল গুটিয়ে যায় ১৭৮ রানে। ফলে ইনিংস ও ১৩২ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচসেরা হন স্টিভ ওয়াহ।
এরপর কেয়ার্নসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও একই চিত্র দেখা যায়। এবার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে হান্নান সরকার ৭৬ এবং হাবিবুল বাশার ৪৬ রান করেন। বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৯৫ রান। জবাবে ড্যারেন লেম্যানের অপরাজিত ১৭৭, স্টিভ ওয়াহর শতক এবং মার্টিন লাভের শতকে অস্ট্রেলিয়া ৫৫৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হলে ইনিংস ও ৯৮ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। দুই ম্যাচের সিরিজও ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকেরা।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ সফরে আসে অস্ট্রেলিয়া। ফতুল্লা টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান করে। শাহরিয়ার নাফীস করেন ১৩৮ এবং হাবিবুল বাশার করেন ৭৬ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২৬৯ রানে অলআউট হওয়ায় বাংলাদেশ ১৫৮ রানের লিড পায়।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। মাত্র ১৪৮ রানে অলআউট হয় দল। অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০৭ রান। রিকি পন্টিংয়ের অপরাজিত ১১৮ রানের অসাধারণ ইনিংসে শেষ পর্যন্ত তিন উইকেট হাতে রেখে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টেও অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ১৯৭ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ৫৮১ রান। রিকি পন্টিং ও জেসন গিলেস্পি করেন দ্বিশতক। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩০৪ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া জয় পায় ইনিংস ও ৮০ রানে।
এরপর আসে ২০১৭ সালের মিরপুর টেস্ট। সেটিই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ২৬০ রান। সাকিব আল হাসান করেন ৮৪ রান। অস্ট্রেলিয়া জবাবে ২১৭ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ ৪৩ রানের লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২২১ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৬৫ রানের লক্ষ্য দেয়। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ভালো অবস্থানে থাকলেও সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ২৪৪ রানে অলআউট হলে ২০ রানের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়।
তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩০৫ রান করে। মুশফিকুর রহিম করেন ৬৮ এবং সাব্বির রহমান করেন ৬৬ রান। জবাবে ডেভিড ওয়ার্নারের ১২৩ এবং পিটার হ্যান্ডসকম্বের ৮২ রানে অস্ট্রেলিয়া ৩৭৭ রান করে ৭২ রানের লিড নেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং আবারও ব্যর্থ হয়। দল গুটিয়ে যায় ১৫৭ রানে। নাথান লায়ন প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ছয় উইকেট শিকার করেন। মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য পেয়ে অস্ট্রেলিয়া সাত উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়।
এবার দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগের দুই সফরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হলেও ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক জয় আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু পুরোনো ব্যর্থতার স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, বরং নিজেদের টেস্ট সক্ষমতার নতুন পরিচয় তুলে ধরা।
















