অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা তাসকিন আহমেদ। ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট এবং দ্বিতীয়টি ম্যাকাইয়ে ২২ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়ার পেসসহায়ক কন্ডিশনে তাসকিনের ওপর উইকেট এনে দেওয়ার পাশাপাশি পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেওয়ার বড় দায়িত্ব থাকবে।
সিরিজের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই হারের প্রধান কারণ হলেও বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ চারটি ও তাসকিন দুটি উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ম্যাচটিকে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট সফর। ২৩ বছর পর দেশটির মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয় টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, ২০১৭ সালে মিরপুরে পাওয়া সেই জয়। সেই সাফল্য এবার দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে বলে মনে করেন তাসকিন।
চোটের কারণে গত বছর কোনো টেস্ট খেলতে না পারলেও ২০২৪ সালে চার টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে তাঁর শিকার ছয় উইকেট। অভিজ্ঞতার কারণে নাহিদ, শরীফুল ও ইবাদতদের পাশেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নাহিদ রানা না থাকায় তাসকিনের ওপর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। ইনিংসের শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া এবং গতির মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় আগের টেস্ট সাফল্য সীমিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার পেসসহায়ক পরিবেশে এবার ভিন্ন কিছু করার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
তাসকিনের জন্য এই সিরিজ শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরীক্ষা নয়, বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামর্থ্য যাচাইয়েরও বড় সুযোগ। প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে, তার বড় অংশই নির্ভর করবে তাসকিনের নেতৃত্বাধীন পেস বিভাগের ওপর।















