আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব এবং পশ্চিমা সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে নতুন ধরনের অংশীদারত্বভিত্তিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এফপিআরআই)। সংস্থাটির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দশকে আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে। ফলে সহায়তানির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার জনসংখ্যা প্রায় ২৮০ কোটিতে পৌঁছাবে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ হবে। একই সময়ে নগরায়ণ ৬৫ শতাংশে উন্নীত হবে। এই জনমিতিক পরিবর্তন আফ্রিকাকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে পারে, যদি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ইউরোপও সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। এর সুযোগ নিয়ে চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে আফ্রিকায় অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নিজেদের প্রভাব দ্রুত বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিও জোরালো হয়েছে।
এফপিআরআইর মতে, আফ্রিকার সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ককে এখন সহায়তা নির্ভরতা থেকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে হবে। বিশেষ করে আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া (AfCFTA), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জলবায়ু অভিযোজন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকাকে আর সহায়তার গ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে আরও সমন্বিত ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।















