চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান (সিকেইউ) রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় চীনের পশ্চিমমুখী যোগাযোগ ও বাণিজ্য কৌশল নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। চীনা থিংক ট্যাঙ্ক অ্যানবাউন্ডের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের বেশি বিলম্বের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোনো শুধু একটি রেললাইন নির্মাণ নয়, বরং ইউরেশিয়াজুড়ে চীনের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার অংশ।
বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ চীনের কাশগরকে কিরগিজস্তান হয়ে উজবেকিস্তানের আন্দিজানের সঙ্গে যুক্ত করবে। এটি পূর্ব এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ ইউরোপের স্থলপথ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার কমাবে এবং পরিবহন সময় ৭-৮ দিন হ্রাস করবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই রেলপথের মাধ্যমে চীন প্রথমবারের মতো কাজাখস্তান ও রাশিয়ান রুটের বিকল্প একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় স্থল করিডর গড়ে তুলছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি চীনের পরিবহন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াবে।
অ্যানবাউন্ডের মতে, সিকেইউ রেলপথই শেষ লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে এটিকে তুর্কমেনিস্তান-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান (টিকেইউ) করিডরে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা তুর্কমেনিস্তান, কাস্পিয়ান সাগর, আজারবাইজান ও ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এতে রেলপথের পাশাপাশি জ্বালানি, শিল্প, বন্দর ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কও যুক্ত হবে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, তুর্কমেনিস্তান এই করিডরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে। দেশটির সঙ্গে চীনের জ্বালানি সহযোগিতা ইতোমধ্যে গভীর হয়েছে এবং তুর্কমেনিস্তানের ৭০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস বর্তমানে চীনে রপ্তানি হয়। ফলে অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ করিডর নির্মাণে দেশটির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক জটিলতা, সীমান্ত বিরোধ, আফগানিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বহুপক্ষীয় সমন্বয় ভবিষ্যতে এই করিডর বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।















