ভারতের থিংক ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) বলেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন করে উষ্ণ হলেও তা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও লেনদেনভিত্তিক। এই সম্পর্ক ভারতের জন্য স্বল্পমেয়াদে কিছু কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
ওআরএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতি, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার কারণে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী কৌশলগত পুনর্বিন্যাস নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ অস্ত্র চীন থেকে আসে এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) দ্বিতীয় ধাপও এগিয়ে চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়লেও পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ অবস্থান ভারত-পাকিস্তান সংকট ব্যবস্থাপনাকে জটিল করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার দাবি পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবহার করেছে, যা ভারতের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
ওআরএফের মতে, এই পরিস্থিতির জবাবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়াসহ অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি আরও শক্তিশালী করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রকৃত গভীরতা নির্ভর করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অগ্রগতি এবং পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংকটে ওয়াশিংটনের ভূমিকার ওপর।
















