যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে বহিষ্কৃত হাজারো কিউবান নাগরিক এখন মেক্সিকোতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। অনেকেই কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পর হঠাৎ করে তৃতীয় দেশে পাঠানো হওয়ায় তারা আইনি ও মানবিক সংকটে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনের বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবে চার হাজারেরও বেশি কিউবান নাগরিককে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, পরিবার গড়েছেন এবং কর্মজীবন কাটিয়েছেন।
মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকা এসব কিউবান নাগরিকের অনেকেই কাজ করতে পারছেন না। আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বৈধভাবে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ব্যাংকিং সুবিধাও পাচ্ছেন না। ফলে পরিবার-পরিজনের পাঠানো অর্থ এবং স্থানীয় মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবন চলছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের দাবি, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অনেকের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পূর্বের বহিষ্কার আদেশে কিউবায় ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও তাদের মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে তারা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের একটি অংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আবার অনেকের বিচারিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি। তবুও তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে কিউবান নাগরিকদের গ্রহণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ ধরনের একটি অলিখিত সমঝোতার কথা আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেক্সিকো সরকার প্রকাশ্যে এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।
বর্তমানে মেক্সিকোতে আটকে পড়া বহু কিউবান অভিবাসী আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশা, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
















