গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ছয়শতে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার সাতশ ঊনষাটে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে একান্ন জন আক্রান্ত এবং বিশ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশের অন্যতম বড় শহরের দুটি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ফলাফল এখনো যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হলে সেগুলোও সরকারি হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে একটি সংক্রমণের উৎস পূর্বাঞ্চলের সেই এলাকা, যেখানে প্রথম রোগটি শনাক্ত হয়েছিল। অন্যটির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একই ধরনের ভৌগোলিক সংযোগ পাওয়া যায়নি।
সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের চিকিৎসক, নার্স ও সামনের সারির কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে তারা জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও এখনো পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, অর্থ না পাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। এতে সংক্রমণ মোকাবিলার কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রাখা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কয়েক মাস আগে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। সংস্থাটির মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই ভাইরাসটি কয়েকটি খনি এলাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নীরবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
















