উত্তর সাগরের বিতর্কিত ‘জ্যাকড’ (Jackdaw) গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছে প্রকল্পটির মালিক প্রতিষ্ঠান আদুরা (Adura)। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নতুন কোনো তেল বা গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদনই বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আদুরা প্রকাশিত হালনাগাদ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment-EIA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির পুরো কার্যকালজুড়ে এর নির্গমন বৈশ্বিক বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাসের ০.০২ শতাংশেরও কম হবে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর এর প্রভাব ‘উল্লেখযোগ্য’ হবে না।
আদালতের নির্দেশে নতুন মূল্যায়ন
স্কটল্যান্ডের আদালত পূর্ববর্তী পরিবেশগত মূল্যায়নকে অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে প্রকল্পটির সরকারি অনুমোদনকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। আদালতের নির্দেশে নতুন করে বিস্তারিত জলবায়ু মূল্যায়ন জমা দিতে হয়।
এর আগে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর করা মামলায় আদালত রায় দেয়, গ্যাস উত্তোলনের পর তা ব্যবহার করে যে কার্বন নিঃসরণ হবে, সেই প্রভাবও অনুমোদনের সময় বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
আমদানি কমালে নির্গমনও কমবে—আদুরার দাবি
আদুরার ১৫৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির পরিবর্তে জ্যাকড গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস ব্যবহার করলে প্রায় ৪০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এলএনজি তরলীকরণ, জাহাজে পরিবহন এবং পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নির্গমন ঘটে। দেশীয় গ্যাস ব্যবহারে সেই অতিরিক্ত নির্গমন এড়ানো যাবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের জ্বালানি শিল্প কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালিত হয় এবং দেশটির জলবায়ু নীতিমালা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিবেশবাদীদের আপত্তি
পরিবেশবাদী সংগঠন আপলিফট (Uplift)-এর নির্বাহী পরিচালক টেসা খান বলেন, জ্যাকড গ্যাসক্ষেত্র যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা বা গ্যাসের দাম কমাতে কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে না।
তাঁর ভাষায়, “দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গ্যাস উত্তোলনের পর যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ গ্যাসসম্পদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তুলনামূলক ছোট এই গ্যাসক্ষেত্র আমদানিনির্ভরতা কমাতে খুব সামান্যই অবদান রাখবে।”
অন্যদিকে গ্রিনপিস ইউকের প্রধান বিজ্ঞানী ডাগ পার বলেন, আদুরার মূল্যায়নে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যা সরাসরি গ্রহণ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “নতুন কোনো তেল বা গ্যাসক্ষেত্র অনুমোদন দেওয়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আন্তর্জাতিক লক্ষ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সামান্য পরিমাণ গ্যাসের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
এখন কী হবে?
নতুন পরিবেশগত মূল্যায়ন জমা দেওয়ার পর প্রকল্পটি আবারও যুক্তরাজ্য সরকারের অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জ্যাকড গ্যাসক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করা যাবে না।
















