ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সাইয়ুন শহরের মারইয়ামাহ শিবিরে হাজারো বাস্তুচ্যুত পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। একসময় এখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছালেও গত চার বছরে অর্থ সংকটের কারণে সেই সহায়তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
পশ্চিম ইয়েমেনের হোদেইদা অঞ্চল থেকে দুই বছর আগে পরিবার নিয়ে সাইয়ুনে আসা আলি সাঘের শরিম বলেন, “আগে এখানে সাহায্য ছিল শুনেছি, কিন্তু আমি আসার পর থেকে কিছুই পাইনি।”
তার পরিবার ছোট একটি অন্ধকার ঘরে বসবাস করছে, যেখানে প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকাই কঠিন। কাজ পেলে খাবার জোটে, না পেলে অনাহারে রাত কাটাতে হয় বলে জানান তিনি।
মারইয়ামাহ শিবিরে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা মানুষ বাস করছেন। তাদের অনেকে এখন সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে নিচ্ছেন, খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন কিংবা প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইছেন।
আরেক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে তাঁবুগুলো “জাহান্নামের মতো” হয়ে ওঠে। খাবার জোগাড় করতে তিনি শিবিরের গাছ কেটে কাঠ বিক্রি করছেন।
ইয়েমেনের মুদ্রার মূল্যপতন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। আগে যে পেনশনে একটি পরিবার স্বচ্ছন্দে চলতে পারত, এখন তা এক সপ্তাহও টেকে না।
স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম দুর্ভোগে আছেন। অনেকেই বলছেন, তারা বাস্তুচ্যুতদের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছেন।
সাইয়ুনের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী সালাহ বলেন, “সহায়তা সংস্থাগুলো বলে ত্রাণ শুধু বাস্তুচ্যুতদের জন্য। কিন্তু আমার সন্তানদেরও খাবার নেই।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খালেদ হাসান জানান, কয়েক বছর আগেও তার মাসিক পেনশন দিয়ে ভালোভাবে সংসার চলত। এখন মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেই অর্থের মূল্য অনেক কমে গেছে। সংসার চালাতে তাকে প্রতিদিন টুকটুক চালাতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শিবিরগুলোতে মৌলিক চাহিদার তীব্র সংকট রয়েছে। অনেক পরিবার দিনে দুই বেলাও খাবার জোগাড় করতে পারছে না এবং মানসিক চাপেও ভুগছে।
















