ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। বৈঠকে তিনি রুশ তেল ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন জানান। ইউরোপজুড়ে যখন রুশ জ্বালানির ওপর চাপ বাড়ছে, তখন এই সাক্ষাৎ যেন এক নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ট্রাম্প অরবানের প্রশংসা করে বলেন, “তিনি নিজের দেশের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে জানেন।” তবে রুশ তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আমরা বিষয়টি দেখছি। হাঙ্গেরির জন্য এটি কঠিন অবস্থা, কারণ তাদের সাগরপথ নেই। ফলে বিকল্প উৎস থেকে তেল ও গ্যাস পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”
অরবান এর আগেই রাষ্ট্রীয় রেডিওতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাশিয়া হাঙ্গেরির জ্বালানির মূল উৎস, তাই বাস্তব ফলাফল অর্জনের জন্য এই সম্পর্ক অপরিহার্য। ইতালির সংবাদমাধ্যম লা রেপুবলিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “রুশ তেল ও গ্যাস ছাড়া আমাদের জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হবে, মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।”
এই বৈঠকটি মূলত পরীক্ষা করে দেখবে, ট্রাম্পের সঙ্গে অরবানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি নিষেধাজ্ঞা থেকে হাঙ্গেরিকে রক্ষা করতে পারে কি না।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের ইউরোপ সেন্টারের বিশ্লেষক জেমস বাচিক আল জাজিরাকে বলেন, “ট্রাম্প ও অরবানের বন্ধুত্ব বহু পুরনো, এবং ট্রাম্প হাঙ্গেরির জ্বালানিনির্ভর অবস্থানকে বোঝেন। এখন দেখার বিষয়, এই সম্পর্ক অরবানের জন্য কতটা বাস্তব সুবিধা এনে দিতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির ফলে রুশ তেল কেনা দেশগুলো এখন বিপাকে পড়েছে। এমনকি ভারতের মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলোকেও এখন তাদের ক্রয়নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
অরবান ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে বরাবরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়া-বিরোধী নীতি বাস্তবায়নে হাঙ্গেরি বহুবার বাধা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে শুক্রবারের বৈঠকে অরবান বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাজ করছেন, অথচ ইউরোপ এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে পূর্ণ বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।” ট্রাম্প যখন জানতে চান ইউক্রেন যুদ্ধ জিততে পারবে কি না, তখন অরবানের উত্তর, “সম্ভবত কোনো অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে।”
জাতীয়তাবাদী দুই নেতার এই মতাদর্শিক সখ্যতা, যারা অভিবাসন বিরোধী নীতি ও ‘পরিবারমূল্য রক্ষার’ রাজনীতি প্রচার করেন, সম্ভবত অরবানের কূটনৈতিক সুবিধা বাড়াবে।
অরবান সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যদি কখনও হাঙ্গেরি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সোনালি সময় আসে, তবে সেটি এখনই। আমরা একই লক্ষ্য ভাগাভাগি করি — যুদ্ধ ও শান্তি, অভিবাসন এবং পরিবারের মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে।”
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক হাঙ্গেরির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রুশ তেল ক্রয়ে কোনো ছাড় পেলে তা শুধু অরবানের জন্য রাজনৈতিক জয়ই নয়, বরং তার সরকারকেও ঘরোয়া অর্থনৈতিক চাপে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।
















