তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফর বাতিল করেছেন, কারণ একাধিক আফ্রিকান দেশ তার বিমানের জন্য দেওয়া উড়ান অনুমতি প্রত্যাহার করেছে।
তাইওয়ানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিশেলস, মরিশাস এবং মাদাগাস্কার চীনের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চীন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা এসব দেশের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়।
এটি প্রথমবারের মতো ঘটল, যখন উড়ান অনুমতি বাতিল হওয়ার কারণে কোনো তাইওয়ানি প্রেসিডেন্টকে বিদেশ সফর বাতিল করতে হলো।
এসওয়াতিনি বর্তমানে আফ্রিকায় তাইওয়ানের একমাত্র কূটনৈতিক মিত্র। বিশ্বে মাত্র কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়, যাদের বেশিরভাগই ছোট দেশ।
চীন দীর্ঘদিন ধরে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে আসছে, যার অধীনে তারা তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।
বেইজিং তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। চীনা সরকার অতীতে লাই চিং-তেকে ‘উসকানিদাতা’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।
লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে চীনের পদক্ষেপকে ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে সমালোচনা করেন এবং বলেন, এসব চাপ তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইচ্ছাকে দুর্বল করতে পারবে না।
এসওয়াতিনির সরকার জানিয়েছে, সফর বাতিল হওয়ায় তারা দুঃখিত, তবে এর ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না।
লাইয়ের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশটির রাজা মসোয়াতি তৃতীয়-এর শাসনভার গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপনে অংশ নেওয়া।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক আফ্রিকার দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
















