ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকলেও এর রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বাস্তবে তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের দক্ষিণ উপকূল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ ধরনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত পরিসরে কোনো ছোট দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামরিকভাবে সম্ভব হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এসব দ্বীপ ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, কামান এবং দ্রুতগতির নৌযানের হামলার ঝুঁকি সব সময় থাকবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দ্বীপ দখলের পর সেখানে হাজার হাজার সেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রসদ সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা এবং নিয়মিত নৌ ও আকাশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে উঠবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের আরও মতে, দ্বীপ দখল করলেও ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হবে না। বরং এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।
তাদের ধারণা, এমন পদক্ষেপ নিলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও চাপের মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এমন অভিযান কৌশলগতভাবে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে না। ফলে এটি আপাতত তাত্ত্বিক সম্ভাবনা হিসেবেই বেশি বিবেচিত হচ্ছে।
















