কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আবারও ভেঙে পড়েছে। ফলে ১০ দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পুরো দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে পড়েছেন।
সরকারি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় কিউবার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল অবরোধের কারণে জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ থেকে তেল আমদানি কমে যায়। পাশাপাশি আরেকটি দেশও কিউবায় জ্বালানি পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানির বড় অংশ আমদানিনির্ভর কিউবা আরও সংকটে পড়ে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো কিউবার সরকারকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে চাপ সৃষ্টি করা। তবে কিউবার সরকার বলছে, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য এই অবরোধই প্রধান কারণ।
বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গত সপ্তাহেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। অনেকেই বাসাবাড়ির রান্নার পাত্র বাজিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। আগের দুই দফা দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এক দিনেরও বেশি সময় লেগেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশক পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানির ঘাটতি এবং অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে সামান্য চাপেও পুরো জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
















