যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঐতিহাসিক সড়ক রুট ৬৬ শতবর্ষে পা দিচ্ছে এমন সময়ে, এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। শিকাগো থেকে সান্তা মনিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের বড় একটি অংশই বিভিন্ন আদিবাসী অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে, কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত ছিল।
বর্তমানে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে এই সড়ককে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ওকলাহোমার তুলসায় অবস্থিত একটি আদিবাসী রেস্তোরাঁ এই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় উপাদান ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুট ৬৬-এর অর্ধেকেরও বেশি অংশ আদিবাসী ভূখণ্ডের ওপর বা পাশ দিয়ে গেছে, যা প্রায় ২৫টি উপজাতীয় জাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে আদিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসা খুবই কম ছিল।
এই বাস্তবতা বদলাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমেরিকান ইন্ডিয়ান আলাস্কা নেটিভ ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে রুট ৬৬-এর আশপাশে আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অ্যারিজোনার শিল্পপথ এবং ওকলাহোমার ঐতিহ্যবাহী উৎসব উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া ফার্স্ট আমেরিকানস মিউজিয়াম-এ আদিবাসীদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অতীতের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে। এখানে প্রদর্শনীতে দেখা যায় কীভাবে আদিবাসীরা অতীতে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি, কিন্তু এখন তারা নিজেদের গল্প নিজেরাই বলছেন।
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ান পুয়েবলো কালচারাল সেন্টার-এও স্থানীয় উপজাতিদের ইতিহাস ও জীবনধারা তুলে ধরা হচ্ছে। এই কেন্দ্রটি পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষি, সংস্কৃতি এবং প্রতিরোধের ইতিহাস সংরক্ষণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুট ৬৬ কেবল ঐতিহ্যবাহী সড়ক বা ভ্রমণের প্রতীক নয়, বরং এটি এমন একটি স্থান হয়ে উঠছে যেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।
















