প্রিয় মানুষকে ভালোবাসলেও সম্পর্ক নিয়ে সারাক্ষণ সন্দেহ, অকারণ দুশ্চিন্তা, বারবার আশ্বাস খোঁজা কিংবা সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার তীব্র চিন্তা—এসব শুধু সাধারণ অনিশ্চয়তা নয়, বরং এটি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডারের একটি বিশেষ রূপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার মনে করেন তিনি সঙ্গীকে সত্যিই ভালোবাসেন কি না, সম্পর্কটি টিকবে কি না কিংবা সঙ্গী যথেষ্ট উপযুক্ত কি না। এসব চিন্তা এতটাই তীব্র হতে পারে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক সম্পর্কও ব্যাহত হয়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ সম্পর্কে মাঝে মাঝে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সন্দেহ সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে এবং মানসিক চাপ কমাতে তারা বারবার সঙ্গীর আচরণ যাচাই, আশ্বাস চাওয়া বা একই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মতো কাজ করতে থাকেন। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
গবেষকদের মতে, এই সমস্যার দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। একটিতে ব্যক্তি নিজের অনুভূতি নিয়েই সন্দেহে ভোগেন, অন্যটিতে সঙ্গীর ছোটখাটো ত্রুটি বা বৈশিষ্ট্য নিয়েই অতিরিক্ত চিন্তা শুরু হয়। সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া, একসঙ্গে বসবাস শুরু করা বা বিয়ের মতো পরিবর্তনের সময় এই সমস্যা তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৈশবের পারিবারিক অভিজ্ঞতা, অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা করার অভ্যাস এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদর্শ ও নিখুঁত সম্পর্কের চিত্রও অনেকের মধ্যে অযৌক্তিক প্রত্যাশা তৈরি করে, যা মানসিক চাপ আরও বাড়ায়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া মানেই সঙ্গীকে ভালোবাসেন না—এমন নয়। বরং মানুষ যাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, অনেক সময় সেই সম্পর্ককেই এই মানসিক সমস্যা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যথাসময়ে চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শের মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চিকিৎসার অংশ হিসেবে মানসিক আচরণভিত্তিক থেরাপি, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ এবং অযথা আশ্বাস খোঁজার অভ্যাস কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা না করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
















