আর্মেনিয়ার সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন দক্ষিণ ককেশাসের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের জয় শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, চীন ও জাপানের বাণিজ্যিক কৌশল এবং এশিয়া-ইউরোপ সংযোগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাশিনিয়ানের বিজয়ের ফলে আর্মেনিয়ায় রাশিয়া-সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিবর্তনে দক্ষিণ ককেশাসে ইরানের প্রভাবও সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ বাড়ছে।
চীন কয়েক বছর ধরে মধ্য করিডোর নামে পরিচিত স্থলপথকে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের বিকল্প রুট হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই পথ মধ্য এশিয়া, কাস্পিয়ান সাগর, দক্ষিণ ককেশাস এবং তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পৌঁছায়। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই করিডোরের গুরুত্ব বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এই করিডোর আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে। এতে চীনের পাশাপাশি জাপানও লাভবান হতে পারে। জাপান ইতোমধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করা এবং জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
তবে শান্তিচুক্তির পথে এখনও একটি বড় বাধা রয়েছে। আজারবাইজান চূড়ান্ত চুক্তির আগে আর্মেনিয়ার সংবিধানে সংশোধন চায়। বর্তমান সংবিধানের প্রস্তাবনায় এমন একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে, যা আজারবাইজানের দাবি অনুযায়ী নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের ওপর আর্মেনিয়ার দাবির ইঙ্গিত বহন করে।
যদিও পাশিনিয়ানের দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন তাদের নেই। ফলে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এই সংশোধন সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধন ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ ককেশাস এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্থলবাণিজ্য করিডোরে পরিণত হতে পারে। এতে বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
















