একসময় রাজনৈতিক বন্দিশিবির ও সামরিক মহড়ার জন্য কুখ্যাত ছিল গ্রিসের এজিয়ান সাগরের গিয়ারোস দ্বীপ। দীর্ঘ কয়েক দশক সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় দ্বীপটি উন্নয়নের বাইরে থেকে যায়। তবে সেই দীর্ঘ মানবশূন্যতাই আজ গিয়ারোসকে বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত করেছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপটিতে বর্তমানে বিরল ভূমধ্যসাগরীয় সন্ন্যাসী সিলের একটি বড় উপনিবেশ রয়েছে। একসময় বিলুপ্তির মুখে থাকা এই প্রাণীগুলো এখানে নিরাপদ পরিবেশে খোলা উপকূলে শাবকের জন্ম ও লালন-পালন করছে, যা অন্য অনেক এলাকায় আর দেখা যায় না।
দ্বীপটির ইতিহাসও বেশ বেদনাদায়ক। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে এটি রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসনামলেও বহু মানুষকে এখানে আটক রাখা হয়। পরে এটি দীর্ঘদিন নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো স্থায়ী বাসিন্দা, পর্যটন অবকাঠামো বা নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই।
গবেষণার পর দ্বীপটির সামুদ্রিক অঞ্চলকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ফলে অবৈধ মাছ ধরা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংরক্ষিত এলাকায় আগের তুলনায় অনেক বেশি সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
গিয়ারোস শুধু বিরল সিলের নয়, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা সামুদ্রিক পাখিরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজননকেন্দ্র। তবে ইঁদুর ও বন্য শূকরের আক্রমণে এসব পাখির ডিম ও বাচ্চা এখনও হুমকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মাছ ধরা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তনও সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গিয়ারোস প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘ সময় মানুষের হস্তক্ষেপমুক্ত থাকলে কোনো এলাকা প্রাকৃতিকভাবে জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হতে পারে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে নিয়মিত সংরক্ষণ, কার্যকর নজরদারি এবং আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকেও একই ধরনের সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।
















