যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তারা হুমকি, অপমান এমনকি সহিংস ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলছে।
লন্ডনের এক বাসিন্দা আমান্ডা বলেন, তিনি রাস্তায় চলাচলের সময় থুথু নিক্ষেপ, গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। আগে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন তা তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন।
তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইহুদি পরিচয় নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে উঠছে। তার পরিচিত অনেকেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন, বিশেষ করে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার চিন্তা করছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন ইহুদি দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।
লন্ডনসহ বিভিন্ন এলাকায় ইহুদি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর মধ্যে উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং ইহুদি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে হামলার ঘটনা রয়েছে।
ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা ইহুদিবিরোধী ঘটনার রেকর্ডসংখ্যক অভিযোগ পাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ধর্মভিত্তিক ঘৃণাজনিত অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যদিও মুসলিম সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার, জনসংখ্যার অনুপাতে ইহুদিদের ওপর হামলার হার বেশি।
স্বাস্থ্য খাতেও উদ্বেগ রয়েছে। লন্ডনের এক ধাত্রী জানান, কর্মক্ষেত্রে ইহুদি পরিচয়ের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সহকর্মীদের আচরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ইহুদি হওয়ার কারণে আবাসন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক অনুষ্ঠানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনায়, লন্ডনে বসবাসকারী এক সংগীত প্রযোজক অপহরণের শিকার হন। আদালত জানিয়েছে, তার ইহুদি পরিচয়ের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে ঘৃণামূলক বক্তব্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে বিদ্বেষমূলক আচরণ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান আইন যথেষ্ট হলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।
এদিকে, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিক্ষোভেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আয়োজকরা সব ধরনের বিদ্বেষের নিন্দা জানিয়েছেন।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মান জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন হয়ে উঠেছে।
তবে অনেকেই এখনও আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, সমাজে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের পরিবেশ আবারও ফিরে আসতে পারে।
















