একটি বানরের তোলা সেলফি ছবি ঘিরে শুরু হওয়া আইনি বিতর্ক এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগে শিল্পকর্মের মালিকানা প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আমরা কী ধরনের ছবি, গান বা লেখা দেখব—তাও নির্ধারণ করতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গলে এক আলোকচিত্রীর ক্যামেরা ব্যবহার করে একটি ক্রেস্টেড ব্ল্যাক মাকাক নিজের ছবি তোলে। সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, কোনো অমানবিক সত্তা দ্বারা তৈরি কাজ কপিরাইটের আওতায় পড়ে না। অর্থাৎ, মানুষ ছাড়া অন্য কেউ ছবি তুললে তার মালিকানা দাবি করা যাবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণী অধিকার সংগঠন পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস একটি মামলাও করে, যেখানে দাবি করা হয় ছবির মালিকানা ওই বানরের হওয়া উচিত। তবে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
পরবর্তীতে একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি শিল্পকর্ম নিয়েও। এক প্রযুক্তিবিদ দাবি করেন, তার তৈরি একটি এআই নিজে নিজেই ছবি তৈরি করেছে এবং সেটির কপিরাইট তার হওয়া উচিত। কিন্তু আদালত আগের সিদ্ধান্তের মতোই জানায়—মানুষ ছাড়া তৈরি কাজের কোনো মালিকানা নেই।
এই সিদ্ধান্তের ফলে একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে—এআই যদি গান, চলচ্চিত্র বা লেখা তৈরি করে, তাহলে তার মালিক কে? বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী, সম্পূর্ণ এআই-নির্ভর সৃষ্টির মালিক কেউ হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ, যদি এআই-তৈরি কনটেন্টের মালিকানা না থাকে, তাহলে সেগুলো থেকে আয় করার সুযোগও কমে যায়।
তবে মানবসৃষ্ট কাজ এখনও কপিরাইট সুরক্ষা পায়, যা সৃজনশীলতার মূল্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। অনেকের মতে, ভবিষ্যতে এআই সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা কঠিন হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হয়, যেখানে যিনি এআই ব্যবহার করে কাজ তৈরি করেন, তাকে মালিক হিসেবে ধরা হয়। তবে এই নিয়ম নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, একটি বানরের তোলা ছবি থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সৃজনশীলতার মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
















