বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে ইরান ঘোষণা দেয় যে হরমুজ প্রণালী আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে এবং যে কোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সোমবার এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। ওই সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দেয়, যা দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যও তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রবিবার পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ ছিল। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে সাময়িকভাবে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাহার করেছে। তাদের দাবি, অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালী বন্ধই থাকবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ চালু থাকবে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামা করছে। আগে যেখানে ব্যারেলপ্রতি দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল, তা মার্চের শুরুতে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে, কারণ তাদের জ্বালানির বড় অংশই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা কমানো, বাসা থেকে কাজের নির্দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কিছু দেশ নাগরিকদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
















