যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিল সংকট মোকাবিলায় কিছু অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকারি নীতির পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় অর্জিত সাফল্য হুমকির মুখে পড়েছে।
টেক্সাসের ডালাসে একটি বেসরকারি পুনর্বাসন সংস্থার কর্মী মাইকেল ওয়াটকিনস নিয়মিতভাবে মাদকাসক্তদের বাড়িতে গিয়ে সহায়তা প্রদান করেন। অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিনি আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তার তথ্য দেন।
এই ধরনের উদ্যোগে ডালাসে ফেন্টানিলজনিত মৃত্যুহার কিছুটা কমেছিল। ২০২৩ সালে যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৮০, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়ায় ২০৩। দেশজুড়েও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেন্টানিলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মাদক সমস্যাকে সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মোকাবিলা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা খাতে ব্যাপক বাজেট কাটছাঁট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় আসক্তি চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পদক্ষেপ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সহায়তা কার্যক্রম সমানভাবে জরুরি।
এদিকে ফেন্টানিল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের উৎসও পরিবর্তিত হয়েছে। আগে চীন প্রধান উৎস হলেও এখন তা অনেকটাই ভারতে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এসব উপাদান পরে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের দিকে পর্যাপ্ত নজর না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও পিছিয়ে পড়ছে। তাদের ভাষায়, সংকট মোকাবিলায় দেশটি এখনো প্রস্তুতির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে মাদকাসক্তদের মধ্যে ভয় ও সামাজিক কলঙ্কও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেন্টানিলকে “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ফলে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীরা মনে করেন, যেকোনো ধরনের মনোযোগই ইতিবাচক হতে পারে, যদি তা শেষ পর্যন্ত সহায়তা ও চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—যেখানে আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তা একসঙ্গে কাজ করবে।
















