যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক মহাসড়ক রুট ৬৬, যা একসময় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল, সেটিকে নতুন জীবন দিয়েছেন ৯৮ বছর বয়সী এঞ্জেল ডেলগাডিলো। বর্তমানে তিনি “রুট ৬৬-এর দেবদূত” হিসেবেই পরিচিত।
অ্যারিজোনার সেলিগম্যান শহরের বাসিন্দা ডেলগাডিলো ছোটবেলা থেকেই এই সড়কের ব্যস্ততা দেখেছেন। তার পরিবারের নরসুন্দর দোকান ছিল যাত্রীদের জন্য এক পরিচিত জায়গা। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে নতুন মহাসড়ক চালু হওয়ার পর পুরোনো রুট ৬৬ ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। ফলে সেলিগম্যানসহ আশপাশের শহরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট নেমে আসে।
এই পরিস্থিতিতে ডেলগাডিলো হাল না ছেড়ে উদ্যোগ নেন। তিনি বুঝতে পারেন, মানুষ শুধু গন্তব্যে পৌঁছাতে চায় না, বরং পথের অভিজ্ঞতাও খোঁজে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং রুট ৬৬-কে ঐতিহাসিক মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলেন।
তার প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ সেলিগম্যান থেকে কিংম্যান পর্যন্ত অংশকে “ঐতিহাসিক রুট ৬৬” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো সড়কটি আবার পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
বর্তমানে রুট ৬৬ ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন পর্যটন সংস্কৃতি। পুরোনো মোটেল, খাবারের দোকান ও ছোট ব্যবসাগুলো আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সেলিগম্যান শহরেও এখন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়।
ডেলগাডিলোর জীবন ও উদ্যোগ জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও প্রভাব ফেলেছে। একটি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে তার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কাল্পনিক শহর তৈরি করা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহাসিক সড়কের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে।
নিজের অর্জন নিয়ে ডেলগাডিলো বলেন, এটি তার একার কৃতিত্ব নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তার দৃঢ়তা ও উদ্যোগের কারণে শুধু একটি সড়ক নয়, বরং বহু ছোট শহরের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
রুট ৬৬-এর এই পুনর্জাগরণ প্রমাণ করে, একজন মানুষের উদ্যোগই ইতিহাসকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে পারে।
















