সহায়তানির্ভরতা থেকে সক্ষমতাভিত্তিক উন্নয়নে জোর
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বাংলাদেশের নতুন পিপিপি মডেল উপস্থাপন—সহায়তানির্ভরতা কমিয়ে সক্ষমতা উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নে জোর।
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ধারা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সহায়তানির্ভরতা কমিয়ে সক্ষমতাভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় এই নতুন পিপিপি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
ফোরামের ‘Shrinking Aid and Capacity Building’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। বরং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর জোর দেওয়া।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
এই সেশনে জাতিসংঘ, টার্কিশ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (টিকা) এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পিপিপি মডেলের মূল দিক
হুমায়ুন কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন—
- উন্নয়ন সহযোগিতাকে সহায়তানির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে
- স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি
- মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি
- নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন
- স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তা সরাসরি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ভূমিকা রাখে।
কৌশলগত বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—উন্নয়ন সহযোগিতার ধরণ বদলে এখন সময় এসেছে স্বনির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়ার।
















