জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, নৌপথে পালানোর চেষ্টা করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গত বছর ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। ওই সময়ে ৬ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন, যেখানে প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে—যা বিশ্বে শরণার্থীদের সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।
চলতি বছরেও এই বিপজ্জনক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা করেছেন।
সম্প্রতি প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়, যা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাত্র ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ওই নৌকায় রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশিও ছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরভিত্তিক জনসংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, শরণার্থীদের অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী ও চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা তাদের জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় নয় বছর আগে মিয়ানমারে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
















