ইয়েমেনে স্থানীয় মুদ্রার মান কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তীব্র নগদ সংকটে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে রিয়ালের অবমূল্যায়ন কমলেও বাজারে নগদ অর্থের ঘাটতি নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। এসব পদক্ষেপে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর কমে প্রায় ২৯০০ থেকে ১৫০০-এ নেমে আসে। তবে এর ফলে বাজারে স্থানীয় মুদ্রার সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।
আডেন, তাইজ, মুকাল্লাসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ অভিযোগ করছেন, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি মুদ্রা বদলে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে অথবা দিনে খুব সীমিত পরিমাণে লেনদেন করছে। অনেক ক্ষেত্রে একজনকে দিনে মাত্র ৫০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত বদলানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে যাদের কাছে ডলার বা সৌদি রিয়াল রয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ তুলতে পারছেন না। ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে গড়ে উঠেছে কালোবাজার, যেখানে কম দামে বিদেশি মুদ্রা বিনিময় করতে হচ্ছে।
মুকাল্লার এক ক্ষুদ্র দোকানদার জানান, কয়েকশ সৌদি রিয়াল বদলাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরেও সফল হননি। এতে তাকে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশটির সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষ উভয়ই আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেককে কম মূল্যমানের নোটে বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা বহন করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত এবং মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানও কম থাকায় মানুষ আরও বেশি সমস্যায় পড়ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় অনেকে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ পরিচিত দোকানদারের মাধ্যমে বাকিতে পণ্য নিচ্ছেন, আবার কেউ কম দামে স্থানীয় দোকানে বিদেশি মুদ্রা বদলাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন লেনদেন কিছুটা সহায়তা করছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও এই সংকটের প্রভাব পড়ছে। অনেক হাসপাতাল বিদেশি মুদ্রা নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, ফলে রোগীর স্বজনদের নগদ রিয়াল জোগাড় করতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে নেওয়া কঠোর নীতির ফলে স্বল্পমেয়াদে এই ধরনের তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত কার্যকর সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
















