যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পড়েছে বড় চাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিচালিত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এই সংঘাতে ইরান যেমন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনি উপসাগরীয় দেশগুলোও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির শিকার হয়েছে।
প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট তাৎক্ষণিক ঘটনার কারণে শুরু হয়নি। বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ, যেখানে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়।
এই অভিযানে জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন ছিল না এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধের ফলে ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে, যার মধ্যে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের দাবি রয়েছে। বিনিময়ে তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে এবং এটি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ নয়, আবার অতিরিক্ত দাবিও নয়।
এই সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, জ্বালানি খাতের ক্ষতি এবং বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে এসব দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িত না থাকলেও তারা এর প্রভাব বহন করতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগে যাকে নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দেখা হতো, এখন অনেকেই তাকে ঝুঁকির উৎস হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো। যদিও কিছু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিহত হয়েছেন, তবুও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অটুট রয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
সবশেষে বলা হচ্ছে, এই যুদ্ধে প্রকৃত অর্থে কেউই জয়ী হয়নি। বরং মানবিক ক্ষতি, অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব পক্ষকেই এর মূল্য দিতে হয়েছে।
















